গোলাপ গাছের গলায় দড়ি

 গোলাপ গাছের গলায় দড়ি

মোঃ আশিক মোস্তফা 

গোলাপ গাছের গলায় দড়ি, রম্য রচনার আলাপন




[১]

সকাল আটটা থেকে স্কুল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বসে আছি ব্রীজের উপর। এখন সাড়ে নয়টা বাজে। তারপরও বিসমিকার কোনো খোঁজ নেই। ওহ বিসমিকা! এক কথায় বিসমিকা হলো আমার ক্রাশ। একটু বেশিই ক্রাশ আর কি। গত মাস খানেক আগে স্কুলে সমাবেশের সময় হঠাৎ দেখা। ঐ যে দেখা!  তা শুধু দেখায় না, যেন চোখের ভাইব্রেশন! অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানলাম মেয়েটার নাম বিসমিকা।সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে এবার। সেদিন থেকেই শুরু আর কি! 
__ আরেহ তিহান ভাইয়া! পনে দশটা বাজে।স্কুলে যাবেন না? আপনি  আজও ব্রীজের উপর কেন? আপনাকে না বলেছি আমার পিছু নিবেন না।
কাঙ্ক্ষিত কন্ঠস্বরে কল্পনার জগৎ থেকে হুশ ফিরলেও শেষ বাক্য গুলো শুনে আমতা আমতা করতে মিনিট দুয়েক পার হয়ে গেল। ততক্ষণে ও বেশ দূরে চলে গেছে।


[২]

দুই মাস ধরে বিসমিকার পিছু নিচ্ছি। বেশ কয়েকটা চিঠিও পাঠিয়েছি কিন্তু উত্তর ও কখনোই দেয়নি বরং যতবারই দেখা হয়ছে শুধু বলে ভালো হয়ে যান ভাইয়া।

আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারী।
সকাল থেকেই ব্রীজে এসে বসে আছি।এক হাতে বিসমিকার জন্য লেখা সাড়ে সাত পেজের ছোট্ট চিঠি অন্য হাতে গোলাপ গাছ  নিয়ে বিসমিকার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছি। দাঁড়িয়ে ঠিক না, পায়চারি করছি আর  ভাবছি কি কি বলবো ওকে । অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগমন বিসমিকার।সামনে যেয়ে দাঁড়ালাম। 
__ কি হলো ভাইয়া পথ আটকালেন যে? কিছু বলবেন? 
আমার ওর চোখ দেখেই ভয়ে পা কাঁপা শুরু হয়ে গেছে। অনেকক্ষণ আমতা আমতা করে বললাম।
__ কিছু বলার নেই।তবে এই চিঠিগুলো ও গোলাপ গাছটা নাও।এবার অন্ততঃ চিঠিটার উত্তর দিও।
কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কথা শেষ করেই  উল্টোদিকে হাঁটা শুরু করলাম।


[৩]

২০শে ফেব্রুয়ারী
আজ স্কুল শেষে বিসমিকা নিজে আমাকে ডেকে একটা সাদা ব্যাগ হাতে দিয়ে বলেছে। 
__ ভাইয়া এটা আপনার জন্য। তবে এখন না।এটা রাতে খুলে দেখবেন।

রাত ১০টা।সারাটাদিন যেন আজ যেতেই চাচ্ছে না।সারা বিকালও আজ কোথাও বের হয়নি। কখন রাত হবে আর কখন দেখব কাঙ্ক্ষিত বস্তু সেই প্রতিক্ষায় কেটেছে সারা বিকাল- সারা সন্ধ্যা। 
ব্যাগটা আস্তে করে খুলতেই বেরিয়ে এল দুইটা ব্যাগ।একটা বেশ বড়।অন্যটা ছোট।
বড় ব্যাগটার মুখে মোটা লাল ফিতা বেরিয়ে আছে।অতি আগ্রহের সাথে লাল ফিতাটা টান দিলাম।
একি! এতো আমার দেওয়া গোলাপ গাছ।গাছের মাথায় মোটা লাল সুতো টাঙানো।
ব্যাগ নিয়ে এত এত আশা নিমিষেই হারায়ে গেল।কোথায় যে হারালো! কে জানে!

যাহোক ছোট ব্যাগটাও খুললাম।বেরিয়ে আসলো সুন্দর রঙিন একটা চিঠি। দেখেই বুঝাই যাচ্ছে বাহারি রঙের কলম আর বেশ যত্ন করেই লিখেছে চিঠিটা। কিন্তু কি লিখেছে !!

প্রিয় তিহান ভাইয়া,
আপনাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার জানা নেই। তারপরও প্রথমেই সমবেদনা জানাই আপনার দেওয়া গোলাপ গাছের অকাল মৃত্যুতে। বিশ্বাস করেন ভাইয়া। এতে আমার কোনো দোষ নেই। আপনার দেওয়া গোলাপ গাছটা আমি  যত্ন সহকারে ঘরের চালের উপর শুইয়ে রাখি কিন্তু গতকাল ঝড়ে তা নিচে পড়ে যায়। আর আজ সকালে দেখি আমার ছোট ভাই গাছটার মাথায় লাল ফিতা বেঁধে টাঙিয়ে রেখেছে। এবার বলেন ভাইয়া আমার দোষ কোথায়!!!! 

ইতি
ভালো হয়ে যান ভাইয়া'


রম্য রচনার আলাপন


Powered by Blogger.