দুইটা চকলেট

 দুইটা চকলেট

মোঃ আশিক মোস্তফা 

দুইটা চকলেট,  রম্য রচনার আলাপন

[১]

কেন যে এই বর্ষায় স্কুলে আসতে গেলাম। যদি আর বিশ মিনিট  দেরি করতাম তাহলে আজ আর স্কুলে আসতে হতো না। নিজে নিজেই আফসোস হচ্ছে। 

স্কুলের পিছনে এসেই চারপাশে তাকিয়ে  দিলাম এক স্লিপ। এক স্লিপে যেয়ে তিনহাত দূরে যেয়ে স্কুলের লেবুতলায় পড়লাম। পড়া নিয়ে এখন কোনো ম্যাথা ব্যাথা নেই। বরং খুশিই লাগছে।স্কুলের পিছনে পড়ে যাওয়ায় আমাকে কেউ দেখেনি। বরং এখন এই শক্ত প্রমাণ নিয়ে আজ আম্মুর সামনেই বাড়ি যেয়ে ফুটবল খেলতে পারব। এতক্ষণ না উঠে বসে বসে বসে যেসব সুচিন্তায় ব্যস্ত ছিলাম,  হঠাৎ পিছনের কারো জোরে হি হি হাসির আওয়াজে তার পরিসমাপ্তি হলো। 

একি!! এই মেয়ে তো আমার পড়ে যাওয়া দেখে ফেলেছে। নাহ লজ্জার বিষয় এটা। উঠে দাঁড়িয়েছি।  কিন্তু তখনও মেয়েটা দিব্যি একই সূরে হেসেই যাচ্ছে।  কেমন জানি ব্যঙ্গতার আভাস ভাসছে কানে।অসহায়ের মত মেয়েটার দিকে চেয়ে থাকা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো কাজ খুঁজে পেলাম না।
আমার দিকে এগিয়ে এসে.....

__ এইভাবে ইচ্ছে করে না পড়লেও পারতেন।পায়ে লাগতে পারতো। এই নেন আপনার ব্যাগ। কথাগুলো বলেই চলে গেল মেয়েটা।

মেয়েটাকে আগে স্কুলে এই দুই বছরের মধ্যে দেখি নাই তো। হয়ত নতুন ভর্তি হয়ছে। যাহোক ওসব ভেবে কাজ নেয়। এখন বাড়ি যেয়ে ফুটবল খেলতে হবে।  


[২]

অষ্টম শ্রেণিতে উঠেছি বটে।কিন্তু ছোট বেলার সেই  স্কুল পালানোতে নিজের সাথেই নিজের যে প্রতিযোগিতা ছিল তা আজও যায়নি। ক্লাস বিরতিতে ব্যাগ নিয়ে আস্তে আস্তে এগুচ্ছি, সাথে প্রতি পদে পদে চারপাশ কঠোর পর্যবেক্ষণ তো আছেই। হঠাৎ কারো হি হি হাসির আওয়াজে আমার কঠোর পর্যবেক্ষণই শুধু শেষই হলো না।বরং থমকে গেল  চলা, চোখ জুড়ে ভেসে উঠল ধরা পড়ার পর উদাম পিটুনির প্রতিচ্ছবি। 
কিন্তু একি এতো সেই মেয়ে। আমার অপরাধ গুলো এর কাছেই ধরা কেন যে পড়ে। আমি একটু গম্ভীর ভাব নিয়ে বললাম। 

__ এই মেয়ে তোমার নাম কি? এখানে কি করো?  যাও ক্লাসে যাও।

আমার কথার কেনো তোয়াক্কা না করেই মেয়েটা জবাব দিল

__ আপনি চুরি করে পালাচ্ছিলেন কেন?আমি এখন অংকের স্যারকে বলে দিব।
তবে......

__ তবে কি? 

__ উপায় একটা আছে। যদি দুইটা চকলেট দেন তাহলে বলব না।


[৩]

সেদিন পেরিয়েছে। বছর  দশেক তো হবেই। অনেকদিন পর দেশে এসেছি। গোধুলি মাখা বিকালে ছোট্ট কালের বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরছি।
কোথা থেকে যেন এক পিচ্চি দৌড়ে সামনে এসে হাজির।বয়স আনুমানিক পাঁচ কি ছয় হবে। বেশ যে দৌড়ে এসেছে তার হাঁপানো দেখেই বোঝা যাচ্ছে। একটু দম নিয়েই বলল।

__ আপনি সিগারেট খাচ্ছিলেন কেন? আমি আপনার আব্বুর সাথে বলে দিব। তবে...

আমি তাজ্জব বনে গেলাম।পিচ্চি কয় কি। সিগারেটকে কখনও ছোঁয়ায় হয়নি। তারপরও তার কথার কৌতহলেই জানতে চাইলাম 
__ তবে কি???
__ যদি আমাকে দুইটা চকলেট গিফট দেন।তাহলে বলব না।

হারিয়ে গেলাম সেই স্কুলে পালানো দিনে।মনের পাতায় জেগে উঠল সহস্র স্মৃতি। 

পিছনে কারো হাসির আওয়াজে গভীর ভাবনার ছেদ ঘটল। তবে এই হাসির মধ্যে চিরচেনা কোনো পথের মিল কেন মনে হচ্ছে? পিছনের ফিরতেই

একি! এতো বিসমিকা।

কিছু বলার আগেই হাসির মধ্যেই বিসমিকা বলে উঠল।

অত ভেবে কাজ নেই। আজ আর দুইটা চকলেট দিলে হচ্ছে না। চারটা চকলেট লাগবে।


রম্য রচনার আলাপন


Powered by Blogger.