মা দিবস
মোঃ আশিক মোস্তফা
[১]
ঝুৃম বৃষ্টির এই সকালে মধুর ঘুমের পরিসমাপ্তি ফোনের এলার্মে। এলার্ম কেটে দিয়ে ফোনটা টেবিলে রাখতেই ফোনের স্ক্রিনে চোখ পড়ল তিহানের। তারিখের দিকে নজর পড়তেই মনে পড়ল অফিসের অনুষ্ঠানের কথা।আজকের অনুষ্ঠানে তাকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। পাশের রুমে একমাত্র মেয়ে সিনথিয়াকে কোচিং এর জন্য গুছিয়ে দিতে ব্যস্ত স্ত্রী তাসমিয়া তাম্মি। সেখান থেকে মা ও মেয়ের কথোপকথন ভেসে আসছে। অফিসের ব্যস্ততায় সেদিকে যাওয়ার সময় নেই তিহানের। অগ্যতা নাস্তা ছাড়ায় তড়িঘড়ি করে অফিসের উদ্দেশ্য বেড়িয়ে পড়ল।
তিহান আহমেদ তৌফিক। তৌফিক তার মায়ের দেওয়া ডাক নাম। মা ছাড়া সকলে তিহান বলেই ডাকে। অবশ্য শুধু তিহান নয়। গতমাসের প্রমশনের পর অফিসের সবার মুখে তিহান স্যার অথবা তিহান সাহেব ডাক শুনতেই অভ্যস্ত এখন । বাইরে হালকা হালকা ঠান্ডা বাতাসের কারণে গাড়ির জানালার কাচ বন্ধ করতে বললো ড্রাইভারকে।
** মা শুধু এক শব্দের শব্দ নয়,
নয় শুধু একটি সম্ভাষণ,
মিশে আছে আবেগ আর
অনুভূতির সংমিশ্রণ।
মা আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি।
মা দিবসের এই দিনে সকল মাকে জানাই মা দিবসের শুভেচ্ছা। ***
মা নিয়ে উপরের কথা গুলো টাইপ শেষ হতেই গাড়ি অফিসের গেটে ঢুকে পড়েছে। তাই অতি দ্রুত ফোনের পুরনো এলবাম থেকে মায়ের একটি ছবি বের দ্রুত ফেসবুকে পোস্ট করলো তিহান।
মা দিবস উপলক্ষে অফিসে বেশ বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।তিহানের আগমনের সাথে সাথেই অনুষ্ঠান শুরু হলো। প্রধান অতিথি হিসেবে তিহানের বক্তৃতায় মা নিয়ে বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর আবেগঘন কথা বার্তা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই মুগ্ধ। বক্তৃতা শেষে সকলেই করতালির মাধ্যমে তাকে বাহ বাহ জানালো।
[২]
মা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অফিসের সব আনুষ্ঠানিক প্রোগ্রাম শেষ করতে করতে বেশ ক্লান্ত তিহান। গাড়িতে বসতেই হঠাৎ মনে উঠল সিনথিয়ার বায়নায় কথা। গতরাতে মেয়ে তাকে বলে গেছে তার মায়ের জন্য বড় একটি কেক চায়। মা দিবসে সে তার মাকে নিয়ে কেক কাটতে চায়।দেহজুড়ে ক্লান্তি ভর করলেও মেয়ের আবদারের কথা মনে উঠায় ড্রাইভারকে গাড়ি ঘুরিয়ে মার্কেটের দিকে যেতে বললো।
ফোনের ডাটা অন করতেই করতেই টুং টাং করতে লাগল তিহানের ফোন। সকালে পোস্ট করা পোস্টের নোটিফিকেশন ই আসছে একাধারে। অনেকেই কমেন্ট করেছে মাকে নিয়ে, জানিয়েছে তাদের অনুভূতি। মাকে নিয়ে এত সুন্দর পোস্ট করায় অফিসের অনেকেই "ইউ আর গ্রেট স্যার" লিখে সাধুবাদ জানিয়েছে। তিহান সেসব দেখছে আর খুশি মনে কমেন্টের প্রতিউত্তর দিচ্ছে।
[৩]
সারাদিনের ক্লান্তি সত্বেও মেয়ের সাথে মা দিবসের কেক কাটা বেশ আনন্দ মাখা মুডেই কাটালো তিহান।
রাত ১০টা। সারাদিনের সব ব্যস্ততা শেষ করে বিছানায় মাথা ঠেকিয়েছে তিহান। ফোনটা হাতে নিয়ে মেয়ের সাথে তার স্ত্রীর কেক কাটার কিছু ছবি ক্যাপশন লিখে ("" অবশেষে সুন্দর ভাবে মা দিবস পালন করলাম"") পোস্ট করলো সোসাল মিডিয়ায়।
পোস্ট শেষে ফোনটা বিছানাটার পাশে রেখে চোখ বুজোতেই বেজে উঠল প্রিয় রিংটন। রিংটন তো প্রিয়, তবে মানুষটাও কি প্রিয়?
__ কেমন আছিস বাপ। খাওয়া হয়ছে তোর? শরীরটা কেমন আছে তোর?
__ কি হয়ছে তাই বলো?
__ আগের ঈদে তোর আব্বার যে পাঞ্জাবি টা দিছিলি সেই পাঞ্জাবিটা ছিড়ে গেছে। তওফিকাও জিদ ধরছে এবার ঈদে নাকি ওর নতুন জামা লাগবে।.....
কথা শেষ হওয়ার আগেই মাকে থামিয়ে দিয়ে তিহান বলে উঠল
___ রমজানের শুরুতে তোমাদের রোজার বাজার করে দিয়েছি। যা ছিল তাসমিয়া আর সিনথিয়ার শপিং করেছি।আমি এখন আর কিছু দিতে পারবনা। তোমার বাকি ছেলেদেরকে বলো।
মায়ের উত্তর না শুনেই ফোন কেটে দিয়ে বিরক্ত মাখা মনে পাশ ফিরে শুয়ে পড়ল তিহান।
ফোনের ওপারে কথার মাঝেই জ্বলে ওঠা ফোনের দিকে এক পলকেই চেয়ে আছে সন্তানের জন্য সব বিলিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া এক জোড়া বিশ্বাসী চোখ।
তাতে কি!
মা দিবস তো পালন হয়েছে!
----- অসমাপ্ত ----
কিছু কথাঃ আসুন আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়।লোক দেখানো ভালবাসা নয়। পিতামাতাকে আমরা সত্যিকার অর্থে ভালবাসব।


