কোলাহল বিমুখ
মোঃ আশিক মোস্তফা
__ আচ্ছা বাবা! আমি গাড়িতে উঠলে, আমার সাথে রাস্তার পাশের গাছগুলোও দৌড়াই কেন?
চার বছরের মেয়েকে কি'বা বুঝানো যায় এই প্রশ্নে। অগ্যতা সাদ সাহেব বললেন।
__ ওরা তোমার বন্ধু তাই মা। তুমি নেমে গেলেও ওরা আর দৌড়ায় না।
তানহা, সাদের একমাত্র মেয়ে। তানহার জন্মের বছর দুয়েক পরেই তানহার মা হঠাৎ ই এক রাতে চলে যান নীরব শহরে । তারপর থেকেই মা-বাবা উভয়ের ভুমিকা নিতে হয় সাদ সাহেবকে কে। বাপ-মেয়ে দুজন ঈদের শপিং শেষে বাড়ি ফিরতেই চলছে তাদের কথোপকথন।
__ বাবা! ঐ দেখো! ঐ পাশে সামিয়া, ওর আম্মুর সাথে দাড়িয়ে আছে। আমি যাচ্ছি। বলেই রাস্তা পার হতে গেল তানহা। সাদ সাহেবের দুই হাতে তানহার জন্য করা ঈদের শপিং থাকায় তানহার হাত ধরে রাখতে পারিনি ঠিক মতো।
তবে?
তবে আর কি!
মাঝ রাস্তায় থেমে যায় তানহার যাত্রা। দৌড়ে যেয়ে হাত আর মেলানো হয় না প্রিয় বান্ধবী সামিয়ার সাথে।সব যাত্রা তো শেষ হয়।অল্প কিছুক্ষণ কখনও সময়ের সীমানায় অসীমে রুপ নেই মনে হয়।
সাদ সাহেব স্থির । অশ্রু নেই, নেই আর্তনাদ। কেবলই জীবন্ত নীথরতায় প্রিয় মানুষটাকে কাধে নিয়ে যাচ্ছে শেষ নীরের দিকে । প্রশ্ন রাজ্যের কন্যা আজ যে বড্ড শান্ত। সাদা শার্ট ল্যাম্পপোস্টের আলোয় আজ গাড় খয়েরী ধারণ করেছে। হাঁটছে তো হাটছেই। চেনা পথটাও বড্ড অচেনা, অদূরের গন্তব্য তবুও সীমাহীন সীমানা। এ যেন কোলাহলবিমুখ ঝিক ঝিক ট্রেনের শব্দে মনের ভাষা মেলানোর সমীকরণহীন য্যাতায় পিষে যাত্রা করা।
কিছু কথাঃ- আসুন সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে নিজে সচেতন হয়,অন্যকে সচেতন করি।আর অবশ্যই আপনার বাসার ছোটদের পথ-চলাচলের সকল প্রকার নিয়ম শিখিয়ে রাখুন।আর অবশ্য রাস্তা ঘাটে চলার সময় নিজে ও তাদেরকে সাবধানে রাখবেন।

