ধোঁয়াশার আলাপন

 

ধোঁয়াশার আলাপন

                               মোঃ আশিক মোস্তফা 

 


কুয়ামাখা শীত সকালে শত চেনা স্টেশন টাও বড্ড অচেনা। রেলের পাত গুলো  নিরবচ্ছিন্ন পথের নিশানা একে কুয়াশায় মিলিয়েছে নিকট অসীমে। নিদ্রাহীন রাত্রি পাড়ি দিয়ে প্লাটফর্মের চারিদিকে এখন কেবলই সুখময়তার ছড়াছড়ি। সুখময়তার সেই সোপানকে ঘিরে চলছে মশার অবরোধ। সেই অবরোধে কি আর গুড়াতে পারে ঐ সুখময়তার স্তুপ!

যেই স্তুপপতার আবির্ভাবই নিরব অবরোধ দিয়ে। গুঞ্জন জড়ানো এই অবরোধ তার কি'ই বা করতে পারে!


বসে আছে ২নং কামরার  ৩ নং সিটে। 

জ্বি, আমি না। এক মানবী।

মানবী কেন? পরিচয় তার কোথায় গেল? 

বলবে কেমনে! নামটিই তার জানি না যে আমি।

তবে চিনি আমি। শুধু চিনি ই না,বরং তাকে জানিও আমি! হয়ত দেখা হয়েছিল কোনো এক অচেনা সন্ধ্যায়, তাই বুঝি এত পরিচিত চোখ দুটি। হয়ত দেখেছিলাম কোনো এক আধার দিনে, মেহেদী পরা রাঙা হাতও বড্ড চেনা লাগে। হয়ত দেখা হয়েছিল শিমুল উড়ানো কোনো এক বিকালে, এলোকেশ উড়ানো চিত্রটাতেও ঘোর লাগে।

__আচ্ছা শোনেন? কয়টা বাজে বলবেন একটু? আমার ফোনের চার্জ শেষ হয়ছে।

আরেহ! এত সেই কন্ঠ, বৈশাখী সন্ধ্যায় ব্যস্ত খেয়াপারের কন্ঠ।সেই সন্ধ্যার  ব্যস্ততায় যেই  ঝিরি কন্ঠের মানবীকে না দেখেই পাড়ি দিতে হয়েছিল খেয়া।

__ বিসমিকা মা, তুই রাফা কে নিয়ে নেমে আয়! তোর বাবার আসতে দেরি হবে। আমরা পরের ট্রেনে যাব।

( হঠাৎ ই জানালার বাইরে দাড়িয়ে এক ভদ্র মহিলা এসে কথা গুলো বলে উঠলেন।)

 বিসমিকা! বিসমিকা! 

নামটি বেশ জোরেই মুখ থেকে বের হওয়ায় সিট ছেড়ে চলে যাওয়া মেয়েটি পিছনে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল..

__ কয়টা বাজে তা কিন্তু বলেন নাই। 

ডুবে গেছি ভাবনার পাতার  জমানো লাইনের চেনা শব্দে। কি বলে ডাকব আমি! সম্বোষণে ভাসাব আমি! সম্মোহনে ভেসে কাটবে তাহার সহস্র বিকাল। গোধূলি লগ্নে পথের ধূলিকণা জড়াবে তার এলোকেশে। 

 হঠাৎ ট্রেনের বাঁশির আওয়াজে ঘোর কাটল। কোলাহল জমানো স্টেশনটাও ক্ষণিকের নীরব।  হারিয়ে যাওয়া মানবী কি আর ক্ষণিকের নীরবে পাওয়া যায়! সে তো দেখা দিবে কোনো এক কুয়াশা সকালে ধোয়াশীময়ীতার বেশে। ট্রেন ছোটা শুরু করছে  তার গন্তব্যে। তবে আসলে সবার গন্তব্যই কি ট্রেনের সাথে যাচ্ছে !!


__ অসমাপ্ত __

Powered by Blogger.