অকৃত্রিম নগরী

গদখালী,যশোর, বাংলাদেশ 


পরীক্ষা কেমন হয়েছে? পরীক্ষার রুম থেকে বের হয়ে মুখোমুখি হওয়া সেই মহা কমন প্রশ্ন আজ শেষ দিনে একবারেই বিলুপ্ত প্রায়। 
ট্যুর হবে। গন্তব্য পরীক্ষা শেষের আগের দিনের তিন দিন পূর্বে নির্ধারিত।  গদখালী, শুধু এটতুকু পরিচয়ই থাক আপাতত। 
রাত আটটায় হঠাৎ নোটিশ গ্রুপের মেসেজ দেওয়া হলো।

"" বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম।
সকল যাত্রী সাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে, আগামীকাল সকাল ৬ঃ৪৫ মিনিটে বেনাপোল অভিমুখী বেতনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি খুলনা থেকে ছেড়ে যাবে। তাই আপনারা যারা যাবেন, তারা উক্ত বার্তায় রিয়াক্ট দিয়ে আপনার টিকিট কনফার্ম করুন। অপরিচিত কারো দেওয়া জিনিস খাবেন না,নিজে সাবধান হউন,অন্যকে সাবধান করুন।ধন্যবাদ। 
বিঃদ্রঃ হাহা রিয়াক্ট দিলে মাশুলসহ টিকিট কাটিতে হইবে।""

ভোর ৫ঃ১৭ মিনিট
স্টেশনে তখনও কেউ পৌঁছায়নি, ওহ, কেউ না মানে আমি বাদে কেউ না। মুঠোফোনের সহায়তামূলক কার্যক্রমে রাস্তায় চলন্ত মানুষের সংখ্যা গুনে টিকিট ক্রয় সম্পন্ন করলাম । ঠিক মানে একদম ঠিক সময়েই ট্রেন ছাড়ছিল, যার আশা কারো মধ্যই ছিল না। আপাতত গন্তব্য ঝিকরগাছা। রাস্তায় শত গল্প-স্বল্প  হলো। যা হলো তা নিজের মধ্যেই থাকা ভাল। যেসব কথা ঝকঝক শব্দের প্রাচীর ভেঙে বিনিময় হয়েছে তা আর নিরব পরিবেশে টাইপ করি কেমনে। 

সকাল ৮ঃ২৫ মিনিট।
ঝিকরগাছা টু বাজার। ওহ গেছি তো ভুলে মহাকথা। আমাদের কথার আলাপনে মাথা ঘুরে গেছে সামনের  সিট গ্রহণকারীদের, যার দায়ভার নেবেই বা কে! যার ইচ্ছে নিতে পারে। 

তারপর? 

ইজিবাইকের উপরে চড়ে কপোতাক্ষ নদ  ( বহুদেশ দেখিয়াছি বহু নদ-দলে, কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মেটে কার জ্বলে ) হয়ে পৌছলাম গদখালী। নাস্তার পর লক্ষ্য বস্তু  ইজিবাইক হয়ে পানিসারা। 

তারপর?

যাবে কোথায় এরা ? এরা আবার কারা! সব রাস্তায় একই দৃশ্য। ওহ দৃশ্যটা কেবলই ফুলের, বলি এবার গদখালীর কথা। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী ফুল উৎপাদিত হয় গদখালীতে। এখানে হরেকরকম ফুলের চাষ করা হয়। গদখালীকে বলা হয় বাংলাদেশের ফুলের রাজধানী। 

 অভিযান ফুলের মাঠ। তবে এই অভিযান কি হয় নাকি শেষ! যার হয়নিই কোনো সূচনা, তার শেষ খোঁজা মনের কোনো বাড়িয়ে দেয় কেবলই একরাশ বেদনা।মনে পড়ে গেল__ 

আঁখি মেলে চাহি দূর বনেতে
উঠেনি তখনও ঊষা।
ঘোর নেমে গেছে সব আধারে
কাটেনি তবুও নেশা।

একপালা অভিযান শেষে মাঝ ব্রেক। জমেছে রঙিন চায়ের সাথে ফুলেল গল্প। নুতন কিছুর অভিযানে যাত্রা পুনরায়।যেখানে সবকিছুই নতুন সেখানে নুতন কিছু খোঁজা কেবলই এলোমেলো অগোছালো পথিকের মত। 

দুপুরের বিরতি।খাওয়া কি হবে তা নিয়ে বেশ আলোচনাই চলল।  ডাল-ডিম-সবজি দিনের এই যাত্রার মাপকাঠিকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। খাওয়া সম্পর্কে বলতেই হচ্ছে। যতদিন যাত্রাপথে থাকব ডাল-ডিম-সবজির স্বাদ রয়ে যাবে মনে,  নিঃসরিত হবে কোনো এক যাত্রার ছোট আলোচনার কেন্দ্রে। 
নামাজ শেষে আবার অভিযান।তবে এবার আর সৌন্দর্যের প্রতীকে নয়,এবার আরো গভীর বনে। বন খোঁজার অভিযান!  তাও ফুলের বাগানে? নেহায়ত মন্দ নয়।  

তারপর? 
সংক্ষিপ্ত আড্ডার সংক্ষিপ্ত কথোপকথন শেষ মনে পড়ে যায় দিন যে পড়ে এলো।নীড়ে ফিরতে হবে। ফিরল নীড়ে সবাই, তবে অপূর্ণ নয়,ভালোবাসায় পূর্ণ মানসিকতা নিয়ে। যেখানে প্রতিটি ফুলের পাপড়িতে প্রস্ফুটিত হয়ে আছে কেবলই অকৃত্রিমতায় ভরা সহস্র ভালোবাসার আবেদন, সেই অকৃত্রিম গুণসম্পন্ন সহস্র ফুলের বাগান থেকে গোটা কয়েক হৃদয় ভালোবাসায় পূর্ণ হলে ক্ষতি কি! অসংখ্য ভালোবাসা দোয়া এই ফুলেল নগরীর জন্য।  আল্লাহ এই ফুলেল শহরের অকৃত্রিম সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিক, পূর্ণ করে দিক সকল হৃদয় কেবলই পবিত্র ভালবাসা দিয়ে_ আমিন 

ভ্রমণকাহিনীঃ- অকৃত্রিম নগরী
মোঃ আশিক মোস্তফা 
২৯শে ডিসেম্বর,২০২১
বিকালঃ- ৫ঃ০০টা

Sections-BTLabels

গন্তব্য বহুদূর

Powered by Blogger.

Ads

SEARCH