বিশেষ কাজে বিকালে বের হওয়া আর কি। যানবাহনের ভিতর বসে এক মনে ফোন ঘাটাঘাটি করা তো আমাদের সবার নিত্য অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাই পাশে বসা মানুষের সাথে এখন আর ট্রেন বা বাস যাত্রায় জমে ওঠে না নতুন-পুরনো জমানো গল্প, সিএনজি বা ইজিবাইকের স্বল্প যাত্রায় আর কেউ শোনে না একে অপরের গন্তব্য। স্বভাব সুলভ ইজিবাইকে উঠে ফোনটা বের করে মনোযোগ দিলাম সেদিকে। কিন্তু পাশের সিটে বসে থাকা ভদ্র মহিলাটির এক নাগাড়ে ফোনের কথোপকথনে মনোযোগ তার কথার দিকেই গেল। পাশের সিটেই শুধু মহিলাটি না, বরং বসছেন তিনি ও তার ছোট ছেলে। সিট একটা কিন্তু ২জনে ভাগাভাগি করে বসছে আর কি।
ফোনের ওপারের কথা গাড়ির আওয়াজে শোনা যাচ্ছে না। তবে একটু বাদে ফোন কেটেছেন তিনি, যেন মহা ঝামেলার মধ্যে যেমন মানুষ একটু হাপ জিরিয়ে নেই, তেমন জিরাচ্ছেন তিনি। কেন জানি মনে হলো বড় কোনো সমস্যা তার! আমি তার দিকে ফিরে, তার মুখ জুড়ে আমার ভাবনার চেয়ে হতাশায় জীর্ণ মুখের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলাম।
কোনো সমস্যা আন্টি আপনার?
__ আর বলছো বাবা। আমার মেয়ে বিয়ে হয়ছে কয়েক মাস আগে। তখন তারা সব দেখে শুনেই নিয়েছে। এখন বলে তাদের একমাত্র ছেলে তারা আয়োজন করে বউ নিয়ে যাবে ২০০ এর বেশী লোকজন আসবে। আমার তো বাপ ২০ জন খাওয়ানোর মতই সামর্থ্য নেই।
এখন মেয়ের শ্বাশুড়ি বলে যদি এই পরিমাণ মানুষকে খাওয়াতে না পারেন, তাহলে আপনার মেয়ের ভাত নেই আমার বাড়ি।
আরও কিছু বললেন তিনি। সেগুলো আর বললামই না। একটু পরেই তার ফোন আবার বেজে উঠল। প্রচন্ড হতাশায় তিনি ফোনটা আবার কানে ধরলেন। আমার গন্তব্যেও ততক্ষণে চলে আসল। আমিও নেমে পড়লাম।
তবে সেসময় থেকে মন জুড়ে সেই বিষয়টি মাথায় ঘুড়ছে।
কেমন সভ্যতার নামে অসভ্য মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে এই সমাজ, এই নগরী।
একজন মা বাবা কত প্রচেষ্টা, শ্রম,সাধনা, ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে সন্তান জন্মের শূন্যতম দিন থেকে তিলে তিলে(এই শব্দটা আসলে যায় না। প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ড তার পরম মায়া-মমতা দিয়ে) একজন সন্তানকে মানুষ করছেন। সেই সন্তানকে অন্যের ঘরে পাঠাতে মা বাবার এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া কতটা সভ্য সমাজের ইঙ্গিত দেয়?
০৬.১১.২২
মোঃ আশিক মোস্তফা


