থমকে থাকা ট্রেনের স্মৃতি

[১]

ট্রেনের যাত্রাপথে এক জায়গায় দাড়িয়ে থাকার ব্যপারটা বরাবরই ভাল লাগে। লাগবেই বা না কেন, এখান থেকেই যে পরম দেনা-পাওনার গল্প গুলো তৈরির দরজা হয়ে আছে। ট্রেন বা স্টেশন একে অপরের পরিপূরক। তবে উভয়ের পরিপূরক এখানে ভীড় করা মানুষ গুলো। অদ্ভুদ চাওয়া-পাওয়ার সংমিশ্রণে এগিয়ে যাওয়া মানুষগুলো জড়ো হয়ে যায় একটি ট্রেনের প্রকোষ্ঠগুলিতে। কেউবা ঘরে ফিরে যায়, যার জন্য পথ চেয়ে আছে তার স্বজনেরা পরম প্রতিক্ষায়। কেউবা ছেড়ে যায় ঘর ,স্বজনের মুখের হাসির যোগানোর আশায়। কেউবা ট্রেনে চড়ে যায়, তবে তার না থাকে বাড়ির ফেরার আকুতি বা না থাকে স্বজন ছাড়ার বেদনা, তার গন্তব্য তার নিজেরই অচেনা। যার নিজেরই অচেনা নিজেকে, তার গন্তব্যই বা থাকে কোথায়!

[২]

অনেকদিন পর বাসায় ফিরছি। ট্রেন ভ্রমণটাই পছন্দ বেশী। আর এখন যে এলাকায় থাকি,সেখানে দূরপাল্লার যান বলতে কেবলই ট্রেন। অগ্যতা বাড়ি ফেরার সময় আমাদেরকে ট্রেনই ধরতে হয়। গত ঘন্টা দুয়েক হলো ট্রেন এক স্টেশনে এসে দাড়িয়ে আছে। বসে বসে বাদামের খোসা ছাড়াচ্ছি আর বিসমিকার হাতে দিচ্ছি। হঠাৎ চোখের পাতায় ভেসে উঠল স্মৃতির চিরচেনা রুপ। ফিরে গেলাম পাঁচ বছর আগে।
সেদিন ট্রেন কি সমস্যার কারণে যাত্রাপথে প্রায় ঘন্টা তিনেক দাড়িয়ে ছিল। কামরায় থাকা বাচ্চা গুলো প্রবল চিৎকারে কান্নার প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। সারা কামরার মধ্য বাবারা তাদের সন্তানদের কোলে নিয়ে ঘুরছিল, গল্পপ্রিয় মানুষগুলোর অবশ্য বেশ সুবিধা, নিজের গল্প থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পযন্ত চলে যায়। অবশ্য শুধু যে বিরামহীন গল্প তা নয়। কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে ট্রেন ছাড়াতে দেরি করার জন্য রেলসংশিষ্টজনদের একবার করে ধুয়ে আবার খোশ গল্পে মেতে উঠছিল। ট্রেনে বসে থাকা মানুষগুলো অবশ্য বিভক্ত হয়ে যায় গল্পের প্রকারভেদে। পুরো কামরা যখন কোলাহলে পূর্ণ তখন সেই কামড়ারই মুখোমুখি দুই সিটের দুজন চুপচাপ।এক সময় চুপচাপ থাকা মানুষ দুজনের মধ্যও কথোপকথন শুরু হয়েছিল সেদিন..
__ আপনি নামবেন কোথায়?(অচেনা মানবী)
__ এইতো দুই স্টেশন পরেই। আপনি?(আমি বলে উঠলাম)
__ আমি শুনতে চাইলাম বলে আপনারও শুনতে হবে নাকি! আর পরের দুই স্টেশন কেন! স্টেশনের নাম নেই বুঝি! (কথাটি বলেই হেসে উঠলেন তিনি)।
অচেনা মেয়ের এমন উত্তরে বেশ থমকেই গেলাম। আবার বলে উঠল
__ যাহ! এক কথাতেই চুপ মেরে গেলেন যে! যাহোক আমি বিসমিকা.. আপনি?
সেইদিনের পথচলা সেই শুরু। আমার অল্প শব্দের উত্তরে তার এক রচনার প্রতিউত্তর, যেন আমার চাওয়ার উল্টোটা। তার নির্ঝর কথা গুলো এখনও যেন কানে বাজছে মনে হয়। এসব মনে করে অজান্তে মুচকি হেঁসে উঠলাম।
__ এই যে বাদামের খোসা না ছাড়িয়ে খাওয়া শুরু করছেন। আবার মুচকি হাসছেন! কার ভাবনায় হারালেন?(হঠাৎ পাশ থেকে বিসমিকা বলে উঠল)।
ভাবনার জগৎ থেকে হুশ ফিরল।
__ পাঁচ বছর আগে, সেই দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের স্মৃতিতে। মনে পড়ে বিসমিকা?
__ ইস.স এখন কোনো ভাবনায় লাভ নেই। পাশে আজ অন্য কেউ নেই যে আপনাকে বলবে, নামবেন কোথায় আপনি...............



অসমাপ্ত________
থমকে থাকা ট্রেনের স্মৃতি
মোঃ আশিক মোস্তফা
১৬ই সেপ্টেম্বর,২০২২
All reacti
Powered by Blogger.