গভীর রাত,
পুরনো আলমারীর ভিতরের কাঠপোকা প্রতিদিনের মত আজও তার কাজ করতে ব্যস্ত। বিছানায় মাথা ঠেকিয়েছি মিনিট পাঁচেক হলো। নাহ! আজ আর ঘুম আসবে না। কাঠপোকার ডাক আজ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে মাথা ধরে আসছে। মা-মেয়ে কত নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। বিছানা ছেড়ে জানালার পাশে দাড়িয়ে এই চেনা শহরের অচেনা রুপ দেখছি। কেটে গেছে জীবনের অনেক পথ। সময় গেছে অনেক, বদলেছে জীবনের গতিপথ। রঙিন যৌবন আজ ভাটায় পৌঁছেছে প্রায়।
ধুপ! আওয়াজ হওয়ার শব্দে পিছে ফিরলাম। কাঠের আলমারীটা ভেঙে পড়েছে ঘুমন্ত তিন বছরের মেয়েটার উপর। ঘুমন্ত মেয়েটা চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে গেছে। ঘর জুড়ে তানহার আহাজারি। তবে চোখে পানি নেই আমার। চোখের পানি কেমনে মানাই এই চোখে! যখন নিজেই ডেকে এনেছি এই দশা, দীর্ঘ বছর ধরে কাঠ পোকার ডাককে ভেবে গেছি ঘুমের গান, এলিয়ে দিয়েছি বিছানায়, ঘুমিয়েছি নির্বাক হয়ে, যার ফলাফল নিজেই এনেছি ডেকে, কেমন ফেলিব চোখের জল সেই উপসংহারে ........
উপসংহার
মোঃ আশিক মোস্তফা


