__ এত বার বললাম আমি বানাচ্ছি,কিন্তু শুনলেন না তো আমার কথা, এখন দেখেন অবস্থা!
__ আমার ইফতার বানানোতে তুমি মনে মনে শুরু থেকেই অখুশি ছিলে, তাই এই অবস্থা বিসমিকা। এতক্ষণে কারণ বুঝতে পারলাম।
__ আহা! আসছে! আপনার দোষ আমার উপরে চাপাইতে।
[১]
প্রথম রমজান উপলক্ষে বেশ দ্রুতই বাসায় ফিরলাম আজ। সেহেরীর সময় বিসমিকাকে বলেছিলাম ও যাতে ইফতার না বানাই, আমি এসে বানাবো। যদিও বিসমিকার বহুত আপত্তি ছিল যে আমি নাকি বানাতে পারব না। তা শুনে জিদটা আরও পেয়ে বসল যে আমার রমণী এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারি নি, কত গুণে গুণান্বিত একটা ছেলে সে কপাল করে পেয়েছ। যাহোক যেটা বলা সেই অনুযায়ী ব্যস্ত হয়ে পড়লাম বাসায় ফিরেই। ততক্ষণে আসর গড়িয়েছে। রান্না ঘরে ঢুকতে বিসমিকা বলল
__ আপনার কিছু করার দরকার নেই, আপনি রুমে যেয়ে বসেন। অথবা যেহেতু আপনি নাছোড়বান্দা তো চাইলে সর্বোচ্চ চুলার পাশে দাড়ায়ে থাকতে পারেন (বলে হেঁসে উঠল) আর অপেক্ষা করেন আমি আসরের নামাজ পড়ে আসি,আজান হয়ছে বেশ আগে ।
বিসমিকা রান্না ঘর থেকে বের হতেই আমি সমস্ত কথা দূরে পাঠিয়ে নিজের মত করে কাজ শুরু করলাম। ও আসার পরে ওকে বললাম
__তুমি এখন শুধু আমার হাতে হাতে সহযোগিতা করো। বাকি কাজ আমি ম্যানেজ করে নিব।
[২]
ইফতার শুরু হয়ছে কিছুক্ষণ আগে । একটু পর বিসমিকা বলল
__ কি হইল তাড়াতাড়ি ভাজাপোড়া গুলো খাওয়া শুরু করেন। আমি তো সব বাদ দিয়ে আপনার বানানো আইটেম দিয়েই শুরু করছি।
আলুর চপ খাওয়ার পরে বুঝলাম প্রচন্ড ঝাল, অন্যান্য ভাজা পোড়াতেও লবণের তীব্রতা অসহনীয়। যদিও বিসমিকা ঐ সময় জিজ্ঞেস করেছিল লবণ দিছি কিনা, জবাবে বলেছিলাম হ্যাঁ সব ঠিক ঠাক দিছি। যাহোক ঝাল মিটাতে পানি খাইতেছি। আর বিসমিকা (মিচকি হাসতে হাসতে) বলল
__ আমি এরকম ইফতার আইটেম প্রতিদিন চাই। শুধু ঝাল আর লবণ আমার অগোচরে দেওয়ার দরকার নেই। তাছাড়া আর সব ঠিক আছে আসলেই বহু গুণান্বিত একটা মানুষ পাইছি।
প্রশংসা করল নাকি অন্য কিছু বুঝলাম না, তবে মনে মনে পরের দিন নতুন কি আইটেম বানানো যায় সেটার হিসাবই করতে লাগলাম...


